Tuesday, October 6, 2020

সুরের তরী

আখিরে তাঁরই সুরের তরী
'আসরা' হল, কুল মেলাল।
মোহিনী কণ্ঠ, এ কি লাবণ্য
শান্তি-ছাওয়া, আখতারি।
                

Friday, September 25, 2020

ছাড়া-ছাড়ি

ফুটে থাকে একলা সাদা,
নিভন্ত আঁচ শত রাত্রি জাগা,
হাত ছাড়ানো ঘুমের ঘোর
বন্ধু-হারা, নাড়ির টান
কে জানত এত পলকা এ ডোর।

Thursday, August 6, 2020

অক্ষমতা

তুলসীপত্র হাতে জন্মেছিলে কি কালো রাতে?
কোথা থেকে আনো এত বিশ্বাস?
আমার নৌকো ভেসে যায় খরস্রোতে,
আমার চাঁদ সর্বদা ছায়াময়।
আমার গল্পে লক্ষ্মীপেচকও ফেলে দীর্ঘশ্বাস।
যে সবল নখর তার অবহেলে জিনেছিল ক্ষুধা
সেও আজ পড়ে আছে ব্যর্থ, কবলিত হুতাশ।

এ কাব্য অক্ষম আজ তোমায় দিতে কোন স্বাদ
বর্জ্য যদি তবে বর্জ, পোড়াও, হানো বজ্রাঘাত।

       

Tuesday, July 28, 2020

হাঁটা

পায়ের তলার মাটিটা যেন কেমন
আশ্রয় দেয় না মোটে
তপ্ত কয়লা পায়ের তলে যেমন
ফোস্কা ভাগ্যে অমনি খালি জোটে।

বহূদূরের পথ যে আমার ভাই
গ্রামের নামটি আমার ভাসানপুর
কাজের দেশে কাজ তো আর নাই
ঘরের কুয়ো অভাব সমুদ্দুর।

শুনিয়েছিল হরেন কাকা আমায়
কারা না কি চাইত ভাতের ফ্যান।
আমার ছেলে উদাত্ত দাবি জানায়
হবেই না কি সে কমপ্ল্যান ম্যান।
                      

Monday, July 27, 2020

বাংলা

এ কোন আখর, এত লাল!
কে ঢেলেছিলে এত স্নেহ জোছনার মত?
সেদিন পেয়েছিল কি ধারাস্নান মাটির সে গাল?
কোন বর্ণের পরিচয়ে উদ্বেল ছিলে নিয়ে এত ক্ষত?

কণ্ঠ উজাড় করে আউড়েছ সহজ সে পাঠ
কোকিলও শুনেছিল ভুলে চেনা কলরব।
আরো ঢালো রঙিন সে বসন্ত, হে বিরাট
অর্ঘের স্মৃতিতে জাগুক ভালবাসা, ভাষার স্ব-রব।

Sunday, July 26, 2020

নটরাজ

মহাপ্লাবনের প্রতীক্ষারত
হে নটরাজ, নিদ্রামগ্ন,
বাজাও ডম্বরু
হোক না আজ শেষের শুরু।

Saturday, July 25, 2020

ঘনায়মান

ঘনঘোর ঘনঘটা গগনে জাগি উঠে,
দ্রিমি দ্রিমি তালে বাজে বাদল ডম্বরু;
চকিতে চমকি দামিনী আঁখি মেলে,
এ কোন উল্লাসে দামাল হল তরু!

নৃত্য পটিয়সী, অঙ্গে মূর্চ্ছনা
ধায় স্রোতস্বিনী সে, যুবতী ললনা।
স্বভাব চঞ্চল বাতাস সে উন্মাদ,
ছিন্ন করি ফিরে তপন-তপ্ত, রুক্ষ জটাজাল।

বর্ষা সমাগম দূর দিগন্তরে
এ কল্প কবি বুনে, নিমেষে মন্তরে।

(ভাবছিলাম জাভেদ আখতার সাহেবের 'ঘনন ঘনন' -এর প্রথম স্তবকটা কীভাবে অনুবাদ করা যায় কথার খেলাগুলো মাথায় রেখে। বাকিটা তারপর অবশ্যি আমার কল্পনা। হায়দারাবাদে এখন বৃষ্টি পড়ছে না। আনন্দ-বর্ষা শুধু মনে।)