চিন্তা ছিল ভাবনার পাশে
ভাবনা ছিল চিন্তার পিঠে
অকালে দুজনের হত কোলাকুলি
প্রাণ ভরে যেত মিঠে আহ্লাদে।
প্রেম বহুরূপী, বিচিত্র বিস্তারে
দুঃখেরও জাগে পিরিতি
নিরাশাও কাঁদে মাথুরের রেশে।
কিছু কথা কবিতা নয়, কিছু আবার কবিতা হয়।/ কিছু ছন্দ কঠোর, কিছু পেলবতার আঁচড় কাটে।/ এই সবেরই সম্মিলনী আমার এই ব্লগের মাঝে।
চিন্তা ছিল ভাবনার পাশে
ভাবনা ছিল চিন্তার পিঠে
অকালে দুজনের হত কোলাকুলি
প্রাণ ভরে যেত মিঠে আহ্লাদে।
প্রেম বহুরূপী, বিচিত্র বিস্তারে
দুঃখেরও জাগে পিরিতি
নিরাশাও কাঁদে মাথুরের রেশে।
তথাপি
মেঘেদের দেশে, গৈরিক মেশে সুনীলের মাঝে
তথাপি
জোনাকির ঝাঁপি, তিলেকও জ্বেলে রাখে বাতি
তথাপি
সুর সে যে সুরেলা, তান কভু একতারা
ধরে, বা এস্রাজ নিধুবাবু টপ্পায় বাজে।
তথাপি
রাস্তার বাঁক, থেমে যায় শুনে অমলের ডাক।
তথাপি
কাশফুল-রেলগাড়ি, বাল্যের ছুটন্ত ছবি
তথাপি
গঙ্গার ঘাটে, মাঝিদের বৈঠায় ছন্দেরা জোটে...
সবকিছু এই
শুন্যে অঙ্গুলি হেলনে, চিত্রকল্প লেখা
ছবিদের যাতায়াত, প্রদীপশিখায় নিভৃতের খেলা।
কথার মাঝে বর্ষা এল, কাজল চোখে,
নির্নিমেষে তাকিয়ে ছিলাম ভিজব বলে।
বর্ষ বাদে স্পর্শ ছিল উষ্ণ প্রেমের,
সময় ছিল, দাঁড়িয়ে যেন একটু দূরে।
"সময় শেষে ছাড়িয়ে নেবে হাতটা তুমি,
রাস্তা আবার ডাকবে তোমায়, চলবে তুমি।"
আমার আদর জবাব ছিল অনুযোগের
মেঘ মল্লার ভাষ্য ছিল সজল চোখে।
ছাড়িয়ে এলাম।
পেরিয়ে এলাম, তার সে গলি, তার সে পাড়া।
আকাশ জুড়ে বর্ষা আজকে বাঁধন ছাড়া।
সিক্ত হয়ে বইছে আজ রাস্তা, সময়, ভুবন ডাঙ্গা,
আর
আবছা করে দৃষ্টি-সীমা,
আমার চোখেও ঝরছে আজ বৃষ্টিধারা।
পূতিগন্ধ! আবর্জনা!
প্রত্যহ, অহর্নিশ
মূষিকের প্রসব, নারকীয় কীটের আনাগোনা।
নিজঅক্ষে ঘূর্ণিত অবণী
গম্ভীর অম্বর, তাড়িত মেদিনী।
প্রাণবায়ু, নিশ্বাস, প্রাণ-হীন।
দ্বিপদীয় দ্বিচারিতা প্রকট অতি
বিরাম কোথায়? কুত্র স্বল্প যতি?
দুর্গা পুজো শেষ, কিন্তু পুজোর রেশ এখনও আকাশে। কালিপুজোও দোরগোড়ায়। মন আজকাল ছোটবেলার দাপাদাপি, উৎসাহ, রোমাঞ্চঘন পুজোস্মৃতিগুলোকে বেশি হাতড়ায়। প্রায়শই হাতড়ায়। ছোটবেলা আমার সুখের ছিল এই টুকরো আনন্দগুলোর আনাগোনায়। সাঁত্রাগাছিতে মেট্রো, বেদুঈন ছিল না। পার্ক স্ট্রিট-এর জাঁক আর রোশনাই ছিল না। কিন্তু, এই পুজোর সময়টাতে সে অন্য অনেক বড় শহরের থেকে বেশি ধনী হয়ে উঠত। তাই আজো সে মনের চিলেকোঠায় বাস করে। যেখানে আমি আজও উঠে যাই। নিভৃতে।
হায়দ্রাবাদ (এপ্রান্তে বলে, হাইদরাবাদ)শহরটা আর যে যে কারণেই হোক, শীতের জন্যে খ্যাত নয়, বিখ্যাত তো নয়ই। কিন্তু, এবছরটা, একটু অন্য রকম হতে পারে। বাতাসে একটা শীতকালীন আমেজ। এ শহরের রীতি মেনে এটুকু অনেকটা। তা এই আমেজ গায়ে মেখে যখন অফিসমুখো হই বা হপ্তান্তে যখন সকালে চায়ের পেয়ালায় চুমুক দি, মনে পড়ে ছোটবেলায় শীতের দুপুরে লেপে সেঁধানোর কথা। মনে পড়ে, গায়ে দেওয়া লেপের নানান ভাঁজ আর খাঁজ, আর সেই আনাচে কানাচে না-ঘুমন্ত এই আমি সৃষ্টি করছি কিছু খেলা। এই কলম-ভিলেন ওঁত পাতে এই ভাঁজে কলম-নায়কের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে, তো ওই উঁচু হাঁটু-পাহাড়ে দাঁড়িয়ে ডাকু মঙ্গল সিং। আর মা-বাবা যে লেপের তলায় ঘুমন্ত, ওটা অন্য এক জগৎ, অন্য অ-জানা বিপদ সংকুল। আহ্, শীত রোদের আমেজ আর চায়ের স্বাদ দুই-ই বেড়ে গেল মনে হচ্ছে! হ্যাঁ, রোদের সঙ্গে ছোটবেলাও পীঠে চাপড় মারছে যে!
দীপ জ্বেলে যাই অন্ধকারে, অমানিশা তুচ্ছ করে।
দ্বারের পারে কে দাঁড়ায়ে, মিষ্টি হাসির ঝিলিক তুলে?
হোক না তিমির নিবীড়তম, শুভর আকাশ প্রদীপ জ্বলে।