খোকন সোনার বয়েস তখন প্রায় দশ। একদিন রাতের বেলা হঠাত ই চিত্কারে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বাড়িতে নাকি চোর ঢুকেছে। সেই চোরের খোজে সারা পাড়া তখন ব্যস্ত। কিন্তু কোথায় সে? এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে হঠাত ই ছেলেটির চোখ গেল তার খাটের তলায়। সে যে ঠিক কি কারণ সেখানে নজর দিয়েছিল তা তার আর আজ মনে পরে না। হয়তো নিছকই কৌতুহল, বা এক অবচেতন মনের খেয়াল ই তাকে বাধ্য করেছিল নজর ঘোরাতে খাটের তলায়। কিন্তু আবিষ্কার তা তারই ভাগ্গে ঘটে গেল। চোর বাবাজীবন তখন তার খাটের তলাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। খোকার মুখে থেকে একবার আওয়াজ বেরোতে না বেরোতেই পাড়া শুধ্হু লোক আবার হাজির, আর এবারে চরের আর পালানোর রাস্তা ছিল না। কিন্তু ধরা পড়ার অনেক আগেই ধরা পড়ার ভয়ে সে চর ততাক্ষণে আধমরা। তার অবস্থা দেখে আর তার কাচুমাচু মুখের দিকে তাকিয়ে, খোকার একটু আপসোস ই বোধ হয় হচ্ছিল, "কেন যে বেচারাকে ধরিয়ে দিতে গেলাম। না হয় একটু লুকিয়েই ছিল..!" কিন্তু ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে। চোর গ্রেপ্তার, আর সবাই আবার নিজের নিজের বিছানায় নিদ্রা দেবীর আরাধনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। হয়ত ঘুমের মধ্যে তলিয়ে যেতে যেতে ছেলেটির মনের কোনো কনে ভাবনা তা বীজ পেয়েছিল, "চোরটার হলো কি?"
No comments:
Post a Comment